বাংলারদূত.কম:

 

চট্টগ্রাম নগরীর মুসলিম হলে আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান খান কায়সারের স্মরণসভায় গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

নগর ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং ‘খুনিদের’ পক্ষ নেয়া নগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন কাউন্সিলর ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে ওবায়দুল কাদেরের গাড়ি ঘিরে রেখে কয়েকশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী বিক্ষোভ করেন।

ওবায়দুল কাদের তাদের দাবির বিষয়টি আন্তরিকভাবে দেখার আশ্বাস দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে আসেন।

তবে তিনি বক্তব্যে বলেন, খুনিদের সঙ্গে কোনো আপস হবে না। সুদীপ্ত হত্যাকারীদের গ্রেফতারে তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বিকালে নগরীর মুসলিম হলে চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আ’লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান খান কায়সারের স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের।

কর্মসূচি শেষে বের হওয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সদ্য খুন হওয়া নগর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যার বিচার চেয়ে ওবায়দুল কাদেরের গাড়ি ঘিরে রেখে স্লোগান দেন।

এর আগে স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ওবায়দুল কাদের বক্তব্য দেয়া শুরু করলে তখনও স্লোগান দেয়া হয়। তখন ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান। স্লোগান দিয়ে স্মরণসভার ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট না করে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে প্রয়োজনে মোবাইলে মেসেজ দিয়ে দাবি-দাওয়ার বিষয়ে কথা বলার জন্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অনুরোধ করেন।

স্মরণ সভা থেকে বের হয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওবায়দুল কাদের গাড়িতে এসে বসার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক’শ নেতাকর্মী তাকে ঘিরে ধরেন। এসময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সুদীপ্ত হত্যার বিচার চেয়ে- প্রতিবাদের শেষ পথ/অস্ত্র হাতে রাজপথ- এই মর্মে স্লোগান দেন।

সূত্র জানায়, এক পর্যায়ে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমুসহ কয়েকজন নেতা ওবায়দুল কাদেরের গাড়ির কাছে গিয়ে তাকে (ওবায়দুল কাদেরকে) সুদীপ্ত হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান এবং খুনিদের ‘পক্ষ নেয়া’ কয়েকজন কাউন্সিলর ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বিষয়ে তাকে অবহিত করেন।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ স্মরণ সভায় আতাউর রহমান খান কায়সারের মেয়ে ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি ছাড়াও, ড. হাছান মাহমুদ এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুদীপ্ত হত্যার প্রতি ইঙ্গিত করে স্মরণসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চট্টগ্রামে কয়েকদিন আগে একটা ঘটনা ঘটে গেছে। আমাদের এখানে দলের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাঝে মাঝে অভ্যন্তরীণ কারণে রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটে। এবারও ঘটেছে। ঘটনার পর আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশকে বলেছি, অবিলম্বে খুনীদের গ্রেফতার করুন, শাস্তি দিন। তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করান।

তিনি বলেন, ‘হত্যাকারী যে-ই হোক, যে দলেরই হোক, খুনীর সঙ্গে কোনো আপস হবে না। খুনি যত প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের গ্রেফতার করতে হবে। বিচার করতে হবে। ’

এর আগে সকালে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আমরা মানবিক সাহায্য করছি। তাদের ফেরত পাঠানো আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমরা রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিয়েছি। তাদের আমরা দিনের পর দিন রাখতে পারবো না। তারা আমাদের জন্য ঝুঁকি হয়ে দেখা দিতে পারে। তাদের সঙ্গে জঙ্গি আসতে পারে, অস্ত্র আসতে পারে। সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের ফেরত নেয় সেজন্য জাতিসংঘের মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে। তাদের ফেরত পাঠানোটাই এখন বাংলাদেশের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ।

LEAVE A REPLY