বাংলারদূত . কম:
রাখাইনের সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে মঙ্গলবার যোগাযোগ করেছে তারা। এ সময় পালিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তে আসা শরণার্থীদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশকে সহায়তা করতে ইউএনএইচসিআর প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সহিংসতা শুরুর পর থেকে মিয়ানমার থেকে ৫২০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন রোববার পর্যন্ত। সীমান্তের মিয়ানমার অংশে এখনও কয়েক হাজার অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের সোমবার দেয়া বিবৃতির ওপর জোর দিয়েছে ইউএনএইচসিআর। ওই বিবৃতিতে মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরাঁ রাখাইনে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। ইউএনএইচসিআরের দেয়া এক বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অংশে সীমান্তের কাছাকাছি বেশ কিছু মানুষকে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। আরো কিছু রয়েছেন কুতুপালংয়ে। এর বেশির ভাগই নারী, শিশু, বয়স্ক মানুষ। এর মধ্যে আহতরাও আছেন। বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় সম্প্রদায়, ইউএনএইচসিআর অংশীদার ও বিভিন্ন এনজিওর অধীনে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে নতুন আসা শরণার্থীদেরকে খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। এমন সাপোর্ট দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। আগামী দিনগুলোতে এমন শরণার্থীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশে কিছু রোহিঙ্গাকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অবহিত আছে ইউএনএইচসিআর। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমন অবস্থান নেয়ার ফলে আক্রান্ত মানুষগুলো ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে। যুগের পর যুগ ধরে মিয়ানমারের শরণার্থীদের ঠাঁই দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। বিবৃতিতে বলা হয়, ইউএনএইচসিআর বিশ্বাস করে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিতে দেয়া উচিত বাংলাদেশের। এটা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সব ত্রাণ ও অন্য সহযোগিতা নিয়ে সহায়তা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। বিবৃতিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আপিল করেছে ইউএনএইচসিআর। এতে তারা মিয়ানমারে তাদের স্টাফদের মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

LEAVE A REPLY